ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহজভাবে জেনে নিন।অ্যাকাউন্ট খোলার আগে কী কী লাগবে, কীভাবে তথ্য পূরণ করবেন এবং পরিচয় যাচাই করবেন তা জানুন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের টাকা Payoneer-এ রিসিভ করার পাশাপাশি বাংলাদেশি ব্যাংক ও বিকাশে টাকা নেওয়ার নিয়মও থাকছে।আমি চেষ্টা করেছি প্রয়োজনীয় সব তথ্য এক জায়গায় সহজ ভাষায় তুলে ধরতে, যাতে নতুনদের বুঝতে কোনো সমস্যা না হয়।
পোস্ট সূচিপত্র ঃ ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব
- ১. ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব
- ২. Payoneer কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে
- ৩. Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার আগে যা লাগবে
- ৪. ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার নিয়ম
- ৫. Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার ধাপগুলো
- ৬. মোবাইল ও ইমেইল যাচাই কীভাবে করবেন
- ৭. Payoneer-এ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করার নিয়ম
- ৮. পরিচয় যাচাই ও অ্যাকাউন্ট অনুমোদন
- ৯. Payoneer দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের টাকা কীভাবে নেবেন
- ১০. Payoneer Receiving Account কী এবং কেন দরকার
- ১১. Payoneer-এ ডলার রিসিভ করার উপায়
- ১২. Payoneer থেকে বাংলাদেশে টাকা তোলার পদ্ধতি
- ১৩. Payoneer থেকে টাকা তুলতে কত খরচ হয়
- ১৪. Payoneer-এর অন্যান্য সুবিধা কী কী
- ১৫. Payoneer ও বিকাশ নিয়ে যা জানা দরকার
- ১৬. Payoneer থেকে bKash-এ টাকা আনার ধাপ
- ১৭. Payoneer অ্যাকাউন্টে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
- ১৮. Payoneer অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার উপায়
- ১৯. Payoneer ব্যবহার করার সময় গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
- ২০. Payoneer নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন
- ২১. লেখকের মন্তব্যঃ ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব
১.ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পর কাজ পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই কাজের টাকা নিরাপদে কীভাবে গ্রহণ করবেন সেটাও আগে থেকে জানা দরকার। বিশেষ করে বিদেশি ক্লায়েন্ট বা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করলে বাংলাদেশে বসে ডলার বা বিদেশি মুদ্রায় পেমেন্ট নেওয়ার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম প্রয়োজন হয়। তাই ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব-এই বিষয়টি নতুন ফ্রিল্যান্সারদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার রিসিভ করার নিয়ম জানা থাকলে পুরো বিষয়টি বুঝতে আরও সুবিধা হয়।
সহজভাবে বললে, Payoneer হলো একটি আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবা, যার মাধ্যমে যোগ্য ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন দেশ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। এটি সাধারণ কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নয়; বরং আন্তর্জাতিকভাবে টাকা গ্রহণ, রাখা, মুদ্রা পরিবর্তন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় ব্যাংক বা অন্যান্য সমর্থিত মাধ্যমে টাকা নেওয়ার একটি ব্যবস্থা।
এই লেখায় তাই শুধু অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতিই নয়, Payoneer কীভাবে কাজ করে, অ্যাকাউন্ট খোলার আগে কী লাগবে, কোন তথ্য কীভাবে দিতে হবে, পরিচয় যাচাই কীভাবে হতে পারে, বিদেশি ক্লায়েন্ট বা Fiverr ও Upwork থেকে টাকা কীভাবে নেবেন, বাংলাদেশি ব্যাংক বা bKash-এ কীভাবে টাকা আনবেন, সম্ভাব্য খরচ এবং নিরাপত্তার বিষয়-সবকিছু সহজভাবে তুলে ধরছি।
২.Payoneer কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে
Payoneer মূলত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণ ও পরিচালনার একটি অনলাইন সেবা। আমরা দেশে টাকা লেনদেনের জন্য যেমন ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পেমেন্ট গ্রহণের জন্যও নির্দিষ্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন পেশাজীবী এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এ ধরনের সেবা ব্যবহার করেন।
ধরুন, আপনি বাংলাদেশে বসে একজন বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করলেন। কাজ শেষ হওয়ার পর ক্লায়েন্ট আপনাকে ডলার বা অন্য কোনো মুদ্রায় টাকা দিতে চাইলে আন্তর্জাতিক পেমেন্টের একটি মাধ্যম প্রয়োজন হবে। আপনার Payoneer অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় receiving সুবিধা থাকলে নির্দিষ্ট ব্যাংকিং তথ্য ব্যবহার করে যোগ্য ক্লায়েন্ট বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।
পেমেন্ট Payoneer-এ আসার পর সেটা আপনার ব্যালেন্সে দেখা যাবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সেই টাকা রাখা, মুদ্রা পরিবর্তন করা বা স্থানীয় ব্যাংকে তোলার ব্যবস্থা করা যায়। তবে কোন সুবিধা আপনার অ্যাকাউন্টে থাকবে সেটা অ্যাকাউন্টের ধরন, অবস্থান, যাচাই এবং Payoneer-এর বর্তমান নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে।
আরও পড়ুন ঃ ফ্রিল্যান্সিং করে ডলার আয় করার সহজ উপায়
৩.Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার আগে যা লাগবে
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব-এটা জানার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত করে রাখা ভালো। সাধারণভাবে সক্রিয় ইমেইল, নিজের মোবাইল নম্বর, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী Payoneer অতিরিক্ত কোনো তথ্য বা কাগজও চাইতে পারে।
আমার পরামর্শ থাকবে, নিজের নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আগে থেকেই প্রস্তুত রাখবেন। কারণ Payoneer থেকে বাংলাদেশি ব্যাংকে টাকা নেওয়ার প্রয়োজন হলে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাই সবচেয়ে স্বাভাবিক পদ্ধতি। অন্য কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে নামের অমিল বা তথ্য যাচাইয়ের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
শুরুতেই অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা না করে আগে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে রাখুন। নিজের নামের ইংরেজি বানান, জন্মতারিখ, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ভালোভাবে মিলিয়ে রাখুন। পরিচয়পত্রে যে তথ্য আছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য দেওয়া উচিত। Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার রিসিভ করার নিয়ম অনুসরণ করার সময় শুরুতেই কয়েক মিনিট সময় নিয়ে তথ্যগুলো ঠিকভাবে প্রস্তুত করলে পরে অনেক অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়ানো যায়।
৪.ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার নিয়ম
Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে নিজের আসল নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য আন্দাজ করে দেওয়া বা অন্য কারও তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা করা উচিত নয়।
Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকে পরিষ্কার ধারণা থাকলে কোন তথ্য কীভাবে দিতে হবে, সেটাও বুঝতে সহজ হয়। নামের ইংরেজি বানানের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। আপনি যে পরিচয়পত্র দিয়ে পরিচয় যাচাই করবেন, সেখানে নাম যেভাবে লেখা আছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সেই বানান অনুসরণ করাই ভালো। ছোট একটি বানান ভুলও পরে পরিচয় যাচাই বা ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সময় অপ্রয়োজনীয় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ঠিকানার ক্ষেত্রেও বাস্তব ও যাচাই করা সম্ভব এমন তথ্য ব্যবহার করুন। পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো নিজের তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া। সব তথ্য পূরণ করার পর সরাসরি জমা না দিয়ে শুরু থেকে আবার একবার দেখে নিন। বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ, ইমেইল, মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানার তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
৫.Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার ধাপগুলো
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব-এই প্রশ্নের উত্তর আসলে কয়েকটি ধাপে বোঝা যায়। প্রথমে Payoneer-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সেখানে আপনার কাজের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাকাউন্টের ধরন নির্বাচন করার সুযোগ থাকতে পারে। Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম ঠিকভাবে বুঝে ধাপে ধাপে এগোলে নিবন্ধনের সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়।
এরপর নাম, জন্মতারিখ, ইমেইল, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, পাসওয়ার্ড এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য দিতে হবে। ওয়েবসাইটের নকশা বা কোনো অপশনের অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো কোনো ভিডিও দেখে হুবহু একই জায়গায় অপশন খুঁজে না পেলে চিন্তার কিছু নেই। মূল বিষয় হলো প্রতিটি অপশনের অর্থ বুঝে সঠিক তথ্য দেওয়া।
সব তথ্য পূরণ হয়ে গেলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে আবার পুরো ফর্মটি দেখে নিন। বিশেষ করে নিজের নাম, জন্মতারিখ, ইমেইল, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংকের তথ্য ভুল হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন। Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার রিসিভ করার নিয়ম বুঝে আবেদন করলেও দ্রুত অ্যাকাউন্ট খোলার চেয়ে শুরুতেই সঠিক তথ্য দেওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন ঃ মানবজীবনে AI এর অবদান
৬.মোবাইল ও ইমেইল যাচাই কীভাবে করবেন
Payoneer অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় যে মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ব্যবহার করবেন, দুটোই সচল থাকা দরকার। নিবন্ধন বা নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় মোবাইলে OTP বা ইমেইলে যাচাই বার্তা আসতে পারে। তাই অন্য কারও নম্বর বা এমন ইমেইল ব্যবহার করা উচিত নয় যেটাতে আপনার নিয়মিত প্রবেশাধিকার নেই।
OTP না এলে প্রথমে মোবাইল নম্বর ঠিক আছে কি না দেখুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে প্রয়োজন হলে আবার কোড পাঠানোর চেষ্টা করতে পারেন। ইমেইলে বার্তা না এলে স্প্যাম বা অপ্রয়োজনীয় বার্তার ফোল্ডারও দেখে নিন। তবে অচেনা কোনো লিংকে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো OTP, পাসওয়ার্ড বা নিরাপত্তা কোড কাউকে দেবেন না। কেউ Payoneer-এর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে যাচাই কোড চাইলে সেটি শেয়ার করবেন না। নিজের অ্যাকাউন্টে কোনো সমস্যা হলে নিজে অফিসিয়াল মাধ্যমে প্রবেশ করে বিষয়টি যাচাই করাই নিরাপদ।
৭.Payoneer-এ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করার নিয়ম
Payoneer থেকে বাংলাদেশে টাকা তোলার পরিকল্পনা থাকলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যোগ করার সময় একটু বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। সাধারণত ব্যাংকের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, অ্যাকাউন্টধারীর তথ্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ব্যাংকিং তথ্য দিতে হতে পারে। ঠিক কোন তথ্য প্রয়োজন হবে সেটা আপনার অ্যাকাউন্ট ও টাকা তোলার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দেওয়ার সময় শুধু মনে করে টাইপ না করাই ভালো। ব্যাংকের চেক, হিসাব বিবরণী বা নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং কাগজ দেখে তথ্য মিলিয়ে নিতে পারেন। SWIFT বা অন্য কোনো ব্যাংক কোড চাইলে আন্দাজ করে কিছু লিখবেন না। প্রয়োজন হলে নিজের ব্যাংক থেকেই সঠিক তথ্য জেনে নিন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নামের মিল। Payoneer অ্যাকাউন্ট এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে টাকা তোলা বা যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে। তাই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করাই ভালো এবং টাকা তোলার আগে সব তথ্য আরেকবার মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
৮.পরিচয় যাচাই ও অ্যাকাউন্ট অনুমোদন
নিবন্ধন শেষ করলেই যে সব সুবিধা সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়ে যাবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। Payoneer প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার পরিচয়, ঠিকানা, কাজের ধরন বা অন্য কোনো তথ্য যাচাই করতে পারে। এটাকে অ্যাকাউন্ট অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখা ভালো।
যদি পরিচয়পত্রের ছবি বা অন্য কোনো কাগজ চাওয়া হয়, তাহলে পরিষ্কার ছবি জমা দিন। ছবির লেখা যেন স্পষ্ট থাকে এবং প্রয়োজনীয় কোনো অংশ কাটা না যায়। আপনার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে পরিচয়পত্রের তথ্যের অমিল থাকলে অতিরিক্ত যাচাই বা তথ্য চাওয়া হতে পারে।
অনেকেই জানতে চান অ্যাকাউন্ট অনুমোদন হতে ঠিক কত সময় লাগে। আসলে সবার ক্ষেত্রে একই সময় লাগে না। কারও যাচাই দ্রুত হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়কে নিশ্চিত ধরে না নিয়ে Payoneer যে নির্দেশনা দেবে সেটাই অনুসরণ করা ভালো।
৯.Payoneer দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের টাকা কীভাবে নেবেন
বাংলাদেশ থেকে ফ্রিল্যান্সিং করে বিদেশি পেমেন্ট নেওয়ার জন্য Payoneer ব্যবহার করতে চাইলে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডলার রিসিভ করার একাউন্ট খোলার পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব-এটা জানা থাকলে অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত করার পরের ধাপগুলোও বুঝতে সুবিধা হবে। অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত হওয়ার পর আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী বিদেশি ক্লায়েন্ট বা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস থেকে পেমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে কোন মার্কেটপ্লেস কীভাবে Payoneer সমর্থন করে সেটা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা গ্রহণের সুবিধা থাকলে নির্দিষ্ট মুদ্রার জন্য দেওয়া ব্যাংকিং তথ্য ব্যবহার করে যোগ্য ক্লায়েন্ট বা প্রতিষ্ঠান থেকে পেমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। পেমেন্ট পাঠানোর আগে ক্লায়েন্টকে সঠিক তথ্য দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার রিসিভ করার নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে ক্লায়েন্টকে কোন তথ্য দিতে হবে সেটাও বুঝতে সুবিধা হবে। ভুল তথ্যের কারণে পেমেন্ট আটকে গেলে বা ফিরে গেলে পরে বিষয়টি সমাধান করতে বাড়তি সময় লাগতে পারে।
Fiverr, Upwork বা অন্য কোনো মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা নিতে চাইলে সেই প্ল্যাটফর্মের টাকা পাওয়ার সেটিংসে Payoneer সুবিধা থাকলে সেটি যুক্ত করা যেতে পারে। টাকা পাঠানোর পর Payoneer-এর লেনদেনের ইতিহাস দেখে অবস্থাটা যাচাই করুন। কোনো পেমেন্ট দেরি হলে মার্কেটপ্লেস এবং Payoneer-দুই জায়গার তথ্যই পরীক্ষা করা ভালো।
১০.Payoneer receiving account কী এবং কেন দরকার
Receiving account কথাটা প্রথমবার শুনলে একটু কঠিন মনে হতে পারে। সহজভাবে বললে, এটি নির্দিষ্ট মুদ্রায় আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের জন্য Payoneer-এর দেওয়া ব্যাংকিং তথ্য। যোগ্য অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট মুদ্রার পেমেন্ট নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ধরুন, আপনি নিয়মিত একজন বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ডলারে পেমেন্ট নেন। আপনার অ্যাকাউন্টে উপযুক্ত USD receiving details থাকলে সেই তথ্য ক্লায়েন্টকে দিয়ে পেমেন্ট নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। Payoneer বিভিন্ন মুদ্রায় পেমেন্ট গ্রহণের সুবিধা দেয়, তবে সবার অ্যাকাউন্টে একই মুদ্রা বা একই সুবিধা থাকবে এমন নয়।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার-receiving account মানেই আপনার নামে আলাদা একটি সাধারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে গেছে, এমন নয়। এটি Payoneer-এর আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণ ব্যবস্থার অংশ। তাই receiving details পাওয়ার পরও Payoneer-এর নিয়ম ও পেমেন্টের উৎসসংক্রান্ত শর্ত মেনে ব্যবহার করতে হবে।
১১.Payoneer-এ ডলার রিসিভ করার উপায়
Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো কীভাবে এতে ডলার রিসিভ করবেন। ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব-এটা বোঝার পর receiving account কীভাবে কাজে লাগে সেটাও জানা প্রয়োজন। আপনার অ্যাকাউন্টে receiving account সুবিধা চালু থাকলে নির্দিষ্ট মুদ্রার জন্য দেওয়া ব্যাংকিং তথ্য ব্যবহার করে বিদেশি ক্লায়েন্ট বা যোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পেমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে কোন মুদ্রায় এবং কোন ধরনের receiving details পাবেন, সেটা আপনার অ্যাকাউন্টের যোগ্যতা ও Payoneer-এর বর্তমান নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
কোনো ক্লায়েন্ট আপনাকে ডলারে পেমেন্ট দিতে চাইলে Payoneer-এর receiving account থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য তাকে দিতে হবে। যেমন অ্যাকাউন্টের ধরন অনুযায়ী ব্যাংকের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, রাউটিং নম্বর বা প্রয়োজনীয় অন্য তথ্য থাকতে পারে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্লায়েন্টকে শুধু প্রয়োজনীয় তথ্যই দেওয়া এবং পেমেন্ট পাঠানোর আগে সব তথ্য একবার ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া।
পেমেন্ট পাঠানোর পর Payoneer-এর লেনদেনের ইতিহাস বা ব্যালেন্স থেকে সেটার অবস্থা দেখা যায়। পেমেন্ট সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারযোগ্য না হলে সেটি যাচাই বা প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় থাকতে পারে। কোনো পেমেন্ট দেরি হলে আগে ক্লায়েন্ট সঠিক তথ্য ব্যবহার করে টাকা পাঠিয়েছে কি না এবং Payoneer-এ লেনদেনের বর্তমান অবস্থা কী দেখাচ্ছে—দুটোই যাচাই করা উচিত।
আরও পড়ুন ঃ Fiverr থেকে টাকা তোলার সহজ পদ্ধতি
১২.Payoneer থেকে বাংলাদেশে টাকা তোলার পদ্ধতি
বিদেশ থেকে টাকা পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই পরের প্রশ্ন আসে-টাকাটা দেশে কীভাবে আনব? ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব-এই বিষয়টি জানার পাশাপাশি টাকা দেশে আনার পদ্ধতিটাও আগে থেকে জানা ভালো। Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলে ডলার রিসিভ করার নিয়ম জানা থাকলে এরপর সেই টাকা বাংলাদেশে কীভাবে নেওয়া যায় সেটাও বুঝতে সুবিধা হয়। Payoneer থেকে বাংলাদেশে টাকা তোলার নিয়ম জানা থাকলে এই ধাপটা বুঝতে সহজ হয়। আপনার অ্যাকাউন্টে ব্যাংকে টাকা তোলার সুবিধা থাকলে নিজের যুক্ত করা বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা যায়।
সাধারণভাবে Payoneer অ্যাকাউন্টে ঢুকে টাকা তোলার অপশনে গিয়ে কোন ব্যালেন্স থেকে টাকা তুলবেন এবং কোন ব্যাংকে পাঠাবেন তা নির্বাচন করতে হয়। কত টাকা পাবেন বা কী খরচ লাগবে, সেটা নিশ্চিত করার আগে ভালোভাবে দেখে নিন। শুধু কত ডলার তুলছেন সেটা নয়, শেষ পর্যন্ত ব্যাংকে কত টাকা জমা হবে সেটাও বোঝা দরকার।
আপনার Payoneer ব্যালেন্স এবং ব্যাংকে পাওয়ার মুদ্রা আলাদা হলে মুদ্রা পরিবর্তন হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিনিময় হার এবং প্রযোজ্য খরচের বিষয়টাও হিসাবের মধ্যে রাখুন। বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকা তুলতে গেলে নিশ্চিত করার আগে দেখানো হার ও খরচ একবার দেখে নেওয়া ভালো।
১৩.Payoneer থেকে টাকা তুলতে কত খরচ হয়
Payoneer ব্যবহার করার ক্ষেত্রে খরচ নিয়ে অনেকেরই ভুল ধারণা থাকে। কেউ কেউ মনে করেন অ্যাকাউন্ট খুলে ফেললেই সবকিছু বিনামূল্যে হবে। বাস্তবে টাকা গ্রহণ, মুদ্রা পরিবর্তন, টাকা তোলা, কার্ড বা অন্য কোনো সেবা ব্যবহার করলে আলাদা খরচ থাকতে পারে। কোন খরচ লাগবে সেটা লেনদেনের ধরন ও অ্যাকাউন্টের ওপর নির্ভর করতে পারে।
তাই Payoneer থেকে টাকা তোলার নিয়ম জানার পাশাপাশি টাকা তোলার আগে আপনার অ্যাকাউন্টে দেখানো বর্তমান খরচটাও দেখে নেওয়া উচিত। কিছু পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে খরচ না থাকলেও অন্য ধরনের পেমেন্টে খরচ থাকতে পারে। একইভাবে স্থানীয় ব্যাংকে টাকা তোলা বা মুদ্রা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও আলাদা খরচ প্রযোজ্য হতে পারে।
কিছু অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে বার্ষিক অ্যাকাউন্ট খরচও থাকতে পারে। কার্ড ব্যবহার করলে বার্ষিক খরচ, এটিএম খরচ বা মুদ্রা পরিবর্তনসংক্রান্ত খরচও হতে পারে। তাই পুরোনো কোনো ভিডিও বা ব্লগে একটি নির্দিষ্ট শতাংশের খরচ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে লেনদেনের সময় আপনার অ্যাকাউন্টে যে বর্তমান তথ্য দেখানো হচ্ছে সেটাই গুরুত্ব দিন।
১৪.Payoneer-এর অন্যান্য সুবিধা কী কী
Payoneer-এর অন্যতম সুবিধা হলো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থাপনাকে এক জায়গায় আনার সুযোগ। যোগ্য ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন মুদ্রায় পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন, ব্যালেন্স পরিচালনা করতে পারেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় ব্যাংকে টাকা তুলতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসার কাজেও এসব সুবিধা কাজে লাগতে পারে।
Receiving account সুবিধাটিও নিয়মিত বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য উপকারী হতে পারে। কারণ নির্দিষ্ট মুদ্রায় পেমেন্ট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং তথ্য দেওয়া যায়। পাশাপাশি কিছু মার্কেটপ্লেসের টাকা পাওয়ার সুবিধা এবং ব্যবসায়িক পেমেন্টের কিছু ব্যবস্থাও নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাওয়া যেতে পারে।
Payoneer-এর কার্ড সুবিধাও কিছু ব্যবহারকারীর জন্য দরকারি হতে পারে। তবে কার্ড থাকলেই যে সবার জন্য এটি প্রয়োজন, এমন নয়। কার্ডের খরচ, এটিএম ব্যবহার এবং মুদ্রা পরিবর্তনের বিষয়গুলো দেখে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।
১৫.Payoneer ও বিকাশ নিয়ে যা জানা দরকার
বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য Payoneer থেকে bKash-এ টাকা আনার সুবিধা বেশ কাজে লাগতে পারে। bKash-এর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, bKash অ্যাপের রেমিট্যান্স অংশ থেকে Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলা বা আগে থেকে থাকা অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে। যোগ্য ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে Payoneer-এর টাকা bKash-এ আনতে পারেন।
আগে থেকেই Payoneer অ্যাকাউন্ট থাকলে bKash অ্যাপের রেমিট্যান্স থেকে Payoneer অংশে গিয়ে সেটি যুক্ত করা যায়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো Payoneer এবং bKash অ্যাকাউন্টের নাম মিলতে হবে। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার সময় নামের বানান নিয়ে সতর্ক থাকার বিষয়টি এখানেও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান bKash তথ্য অনুযায়ী, Payoneer থেকে bKash-এ একবারে ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আনা যায়। এই সেবায় Payoneer-এর ৩ শতাংশ মুদ্রা পরিবর্তন খরচ এবং প্রতি লেনদেনে ১ ডলার খরচ প্রযোজ্য বলে bKash জানিয়েছে। এই পথে ২.৫ শতাংশ সরকারি প্রণোদনাও প্রযোজ্য নয়। তাই টাকা আনার আগে মোট খরচটা বুঝে নেওয়া ভালো।
১৬.Payoneer থেকে bKash-এ টাকা আনার ধাপ
প্রথমে bKash অ্যাপে ঢুকে রেমিট্যান্স অংশে যেতে হবে এবং সেখানে Payoneer অপশন নির্বাচন করতে হবে। আগে থেকেই Payoneer অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটি যুক্ত করার অপশন ব্যবহার করে সংযোগের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। এরপর প্রয়োজনীয় প্রবেশ ও যাচাইয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
Payoneer এবং bKash অ্যাকাউন্টের নামের মিল থাকা প্রয়োজন। কোনো সমস্যা হলে প্রথমে দুই অ্যাকাউন্টে দেওয়া নামের তথ্য ঠিক আছে কি না দেখুন। আর যদি প্রয়োজনীয় সেবা দেখা না যায়, তাহলে bKash-এর বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচয় যাচাই বা তথ্য হালনাগাদের প্রয়োজন আছে কি না দেখে নিন।
যাদের Payoneer অ্যাকাউন্ট এখনো নেই, তারাও bKash অ্যাপের Payoneer অংশ থেকে নিবন্ধন শুরু করতে পারেন। তবে bKash থেকে নিবন্ধন শুরু করা গেলেও অ্যাকাউন্ট অনুমোদনের সিদ্ধান্ত Payoneer-এর নিয়ম অনুযায়ী হবে। তাই নিবন্ধনের সময় নিজের সঠিক তথ্য ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১৭.Payoneer অ্যাকাউন্টে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
নতুন ব্যবহারকারীদের মধ্যে পরিচয় যাচাই আটকে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো কাগজ পরিষ্কার না হলে, কখনো প্রোফাইলের তথ্যের সঙ্গে কাগজের অমিল থাকলে বা কখনো অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হলে যাচাইয়ে দেরি হতে পারে। এমন হলে প্রথমেই Payoneer আপনার অ্যাকাউন্ট বা ইমেইলে কী নির্দেশনা দিয়েছে সেটা ভালোভাবে পড়ুন।
আরেকটি সমস্যা হতে পারে ব্যাংকে টাকা না পৌঁছানো। ভুল অ্যাকাউন্ট নম্বর, নামের অমিল, ব্যাংকের সীমাবদ্ধতা বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে টাকা তোলা আটকে যেতে পারে। এমন হলে বারবার নতুন করে টাকা তোলার চেষ্টা না করে আগে লেনদেনের অবস্থা এবং ব্যাংকের তথ্য যাচাই করুন।
কোনো পেমেন্ট দেরি হলে প্রথমে পেমেন্ট পাঠানো ব্যক্তি বা মার্কেটপ্লেসের অবস্থা দেখুন। এরপর Payoneer-এর লেনদেনের ইতিহাস পরীক্ষা করুন। প্রয়োজন হলে লেনদেনের তথ্য নিয়ে সহায়তা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। আর অ্যাকাউন্ট সীমাবদ্ধ হলে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে সমস্যা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে Payoneer যে তথ্য বা কাগজ চাইছে সেগুলো দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করাই ভালো।
১৮.Payoneer অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার উপায়
অনলাইন পেমেন্ট অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে একদমই হালকা হওয়া উচিত নয়। এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন যেটা অন্য কোনো ওয়েবসাইটে ব্যবহার করছেন না। সম্ভব হলে একাধিক ধাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখুন। এতে পাসওয়ার্ড কোনোভাবে অন্যের হাতে গেলেও অ্যাকাউন্টে ঢোকার ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে।
OTP, পাসওয়ার্ড, নিরাপত্তা কোড বা প্রবেশের তথ্য কাউকেই দেওয়া যাবে না। কেউ ফোন বা মেসেজ করে “অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে” বা “পেমেন্ট ছাড় করতে কোড দিন”এ ধরনের কথা বললে আগে যাচাই করুন। সন্দেহ হলে নিজে অফিসিয়াল Payoneer ওয়েবসাইট বা অ্যাপে ঢুকে অ্যাকাউন্টের অবস্থা দেখুন।
নিজের অ্যাকাউন্ট অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়াও ঠিক নয়। পাবলিক কম্পিউটার ব্যবহার করলে কাজ শেষে অবশ্যই অ্যাকাউন্ট থেকে বের হয়ে আসুন এবং ব্রাউজারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করবেন না। একইভাবে অন্যের টাকা নিজের Payoneer অ্যাকাউন্টে নেওয়ার মতো কাজ থেকেও দূরে থাকুন, কারণ এতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
১৯.Payoneer ব্যবহার করার সময় গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
Payoneer নিয়ে অনলাইনে পাওয়া সব তথ্য যে এখনো ঠিক আছে, এমনটা নয়। বিশেষ করে বোনাস, কার্ড, খরচ, টাকা তোলার সীমা এবং অনুমোদনের সময়ের মতো বিষয়গুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কয়েক বছর আগের কোনো ভিডিও বা ব্লগ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজনের সময় বর্তমান তথ্য যাচাই করাই ভালো।
অ্যাকাউন্ট খোলার সময় নিজের আসল তথ্য ব্যবহার করাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং Payoneer প্রোফাইলের তথ্যের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অমিল তৈরি করবেন না। আর কোনো পরিচিত ব্যক্তি “আমার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা নাও” বা “তোমার অ্যাকাউন্টে আমার পেমেন্ট নেব” বললেও সহজে রাজি হওয়া উচিত নয়।
সবশেষে নিরাপদভাবে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের বিষয়টিও মনে রাখা দরকার। টাকা তোলার আগে খরচ, বিনিময় হার এবং টাকা তোলার পদ্ধতি দেখে নিন। নিজের ফ্রিল্যান্সিংয়ের পেমেন্টের ইতিহাস ও টাকা তোলার রেকর্ডও সংরক্ষণ করে রাখুন। শুরু থেকেই এসব হিসাব গোছানো রাখলে ভবিষ্যতে আয়, ব্যাংকিং বা অন্য কোনো প্রয়োজনের সময় নিজের লেনদেনের তথ্য খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হবে।
২০.Payoneer নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন
Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলতে কি টাকা লাগে? এখানে নিবন্ধন আর লেনদেনের খরচকে আলাদা করে দেখতে হবে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় আলাদা নিবন্ধন খরচ না থাকলেও পরে নির্দিষ্ট সেবা, টাকা তোলা, মুদ্রা পরিবর্তন বা কার্ড ব্যবহারের জন্য খরচ থাকতে পারে। তাই শুধু অ্যাকাউন্ট খোলা বিনামূল্যে কি না না দেখে পরে কী কী খরচ হতে পারে সেটাও দেখে নেওয়া ভালো।
পাসপোর্ট ছাড়া Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে কি? এটি আপনার বর্তমান পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভর করবে। Payoneer যে পরিচয়পত্র চাইবে, সেটি সঠিকভাবে জমা দিতে হবে। ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব-এই প্রশ্নের পাশাপাশি কোন পরিচয়পত্র প্রয়োজন হতে পারে সেটাও আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। আর Payoneer থেকে টাকা তোলার নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশি ব্যাংকে টাকা তোলা যাবে কি না, সেটিও আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা তোলার সুবিধা আছে কি না এবং প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন হয়েছে কি না তার ওপর নির্ভর করবে।
Payoneer থেকে bKash-এ টাকা আনা যায় কি? বর্তমানে bKash-এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই সুবিধা রয়েছে। একবারে ১,০০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আনার সুযোগ রয়েছে এবং নির্দিষ্ট খরচ প্রযোজ্য। তাই পুরোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে লেনদেনের সময় নিজের অ্যাকাউন্টে দেখানো বর্তমান নিয়ম অনুসরণ করাই নিরাপদ।
২১.লেখকের মন্তব্যঃ ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব
ফ্রিল্যান্সিং শেখার সময় আমরা সাধারণত কাজ পাওয়া, প্রোফাইল তৈরি করা আর ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের দিকেই বেশি মনোযোগ দিই। কিন্তু কাজ পাওয়ার পর টাকা কীভাবে নেবেন, সেটাও শুরু থেকেই পরিষ্কার রাখা দরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশে বসে বিদেশি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করলে ডলার গ্রহণের ব্যবস্থা আগে থেকে জানা থাকলে পরে অযথা দুশ্চিন্তা করতে হয় না।
আমার পরামর্শ থাকবে, Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একদম ধীরে-সুস্থে কাজ করবেন। নিজের পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল নম্বর, ইমেইল এবং নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য মিলিয়ে তারপর আবেদন করবেন। বিশেষ করে OTP, পাসওয়ার্ড বা অ্যাকাউন্টে প্রবেশের তথ্য কাউকে দেবেন না। শুরুতে একটু বেশি সতর্ক থাকলে পরে অনেক বড় ধরনের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
আর সবশেষে একটা বিষয় মনে রাখবেন-Payoneer-এর নিয়ম সবসময় একই থাকবে এমন নয়। খরচ, কার্ড, টাকা তোলার সীমা বা পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অন্যের অ্যাকাউন্টে কী সুবিধা আছে সেটা দেখে নিজের অ্যাকাউন্ট নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, নিজের অ্যাকাউন্টে দেখানো বর্তমান তথ্য এবং Payoneer-এর অফিসিয়াল নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিন। সঠিক তথ্য আর একটু ধৈর্য নিয়ে এগোলে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেওয়ার পুরো বিষয়টাই অনেক সহজ হয়ে যায়।



ফোকাস ওয়ার্ল্ড ২৪-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url