ডেঙ্গুর পর দুর্বল লাগছে? শক্তি ফেরানোর ঘরোয়া উপায়

ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায় নিয়ে এই লেখাটা লিখেছি কাছ থেকে দেখা কিছু অভিজ্ঞতা আর প্রচলিত চিকিৎসা পরামর্শের সমন্বয়ে।

ডেঙ্গু-জ্বর-হওয়ার-পর-শারীরিক-দুর্বলতা-কাটানোর-উপায়

জ্বর সেরে যাওয়ার পরও শরীরে যে দুর্বলতা রয়ে যায়, তা কাটাতে ঠিক কী কী মেনে চলা দরকার, কোন খাবার সত্যিই কাজে দেয়, আর কোন ভুলগুলো এড়ানো উচিত সবকিছু সহজভাবে তুলে ধরেছি। আশা করি এই লেখা পড়ে বাস্তব একটা গাইডলাইন পাবেন।

পোস্ট সূচিপত্রঃডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়

১.ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়

আমার এক কাছের বন্ধুর কিছুদিন আগে ডেঙ্গু জ্বর হয়েছিল, আর জ্বর সেরে যাওয়ার পরেও ওকে বেশ কিছুদিন দুর্বলতার সাথে লড়াই করতে দেখেছি। সেই সময়টায় পাশে থেকে যা দেখেছি, আর ডাক্তারদের কাছ থেকে যা জেনেছি, তার ভিত্তিতেই এই লেখাটা সাজিয়েছি।

অনেকেই ভাবেন জ্বর সেরে গেলে মানে সব ঠিক হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে শরীর তখনো ভেতরে ভেতরে লড়াই করে চলে। প্লেটলেট স্বাভাবিক হতে সময় লাগে, পানিশূন্যতা কাটতে সময় লাগে, মাংসপেশির শক্তি ফিরে পেতেও সময় দরকার হয়।

এই লেখায় আমি চেষ্টা করেছি বাস্তবসম্মত আর প্রয়োগযোগ্য কিছু পরামর্শ তুলে ধরতে। ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায় জানা থাকলে এই পুরো সময়টা সামলানো অনেক সহজ হয়ে যায়, আর দুর্বলতাও তুলনামূলক দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায়।

২.জ্বর সারার পরও দুর্বলতা কেন থেকে যায়

আমার বন্ধুর ক্ষেত্রে যেটা লক্ষ্য করেছিলাম, জ্বর কয়েকদিনের মধ্যে চলে গেলেও দুর্বলতা কাটতে বেশ কয়েক সপ্তাহ লেগে গিয়েছিল। প্রথমে এটা অস্বাভাবিক মনে হলেও পরে জেনেছি, ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়াই সাধারণ ব্যাপার।

ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরের প্লেটলেট এবং শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা কমিয়ে দেয়, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই নিচে নেমে যায়। এই ঘাটতি পূরণ হতে সময় লাগে, আর এই সময়টাতেই শরীর সবচেয়ে বেশি ক্লান্তি অনুভব করে। এর সাথে যোগ হয় জ্বরের সময় হারানো পানি আর মিনারেলের ঘাটতি।

এই বিষয়টা বোঝা জরুরি, কারণ এটা জানা থাকলে রোগী নিজেও মানসিকভাবে বেশি ধৈর্য ধরতে পারেন, আর দুর্বলতা দেখে অহেতুক দুশ্চিন্তা করেন না। ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শরীরের এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার উপায় বোঝাটাই আসলে এই লেখার মূল উদ্দেশ্য।

৩.পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার গুরুত্ব

জ্বর সেরে যাওয়ার পর অনেকেই তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক কাজে ফিরতে চান, আমার বন্ধুর ক্ষেত্রেও প্রথমে এমন তাড়া দেখেছিলাম। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শে সেই তাড়াহুড়া না করাটাই পরে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে প্রমাণিত হয়েছিল।

সাধারণত ডাক্তাররা পরামর্শ দেন, জ্বর সারার পর অন্তত এক থেকে দুই সপ্তাহ শরীরকে পুরোপুরি বিশ্রাম দেওয়া উচিত। প্রতিদিন রাতে পর্যাপ্ত ঘুম (৭-৮ ঘণ্টা), আর সম্ভব হলে দিনে একটু বিশ্রাম নেওয়া রিকভারিতে বড় ভূমিকা রাখে। অনেকেরই প্রশ্ন থাকে ডেঙ্গু জ্বরের পর কতদিন বিশ্রাম প্রয়োজন — সাধারণ হিসেবে অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে নেওয়া নিরাপদ, তবে রোগীর শারীরিক অবস্থাভেদে এটা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

শুধু শারীরিক বিশ্রাম না, মানসিক বিশ্রামও সমান জরুরি। অতিরিক্ত কাজের চাপ বা দুশ্চিন্তা এই সময়ে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটা রিকভারি প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।

৪.তরল খাবার ও পানিশূন্যতা পূরণ

ডেঙ্গুর সময় ও পরে শরীরে যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, সেটা পূরণ করাটা রিকভারির সবচেয়ে জরুরি ধাপগুলোর একটা। আমার বন্ধুর পরিবার এই সময়ে নিয়মিত ডাবের পানি আর অন্যান্য তরল খাবারের ব্যবস্থা রাখতেন, আর এটা সত্যিই কাজে দিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।

শুধু পানি না, বিভিন্ন ধরনের তরল খাবার একসাথে খাওয়াটা বেশি কার্যকর। এই তালিকায় যেগুলো সাধারণত সবচেয়ে বেশি সুপারিশ করা হয়:

  • ডাবের পানি
  • ঘরে বানানো লেবু-লবণ-চিনির শরবত
  • মুরগির হালকা স্যুপ
  • তাজা ফলের রস, বিশেষত কমলা বা মোসাম্বি
  • ওআরএস দ্রবণ
ডেঙ্গু-জ্বর-হওয়ার-পর-শারীরিক-দুর্বলতা-কাটানোর-উপায়

ডেঙ্গু হলে ডাবের পানি খাওয়ার সঠিক নিয়ম নিয়ে অনেকের মনে বিভ্রান্তি থাকে সাধারণত দিনে এক থেকে দুইবার, একদম খালি পেটে না খেয়ে হালকা কিছু খাওয়ার পর খাওয়াই ভালো, এতে হজমেও সমস্যা হয় না। এই তরল খাবারগুলো শুধু পানির ঘাটতি পূরণ করে না, শরীরে প্রয়োজনীয় মিনারেল আর এনার্জিও ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

৫.প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের ভূমিকা

জ্বরের ধকলে শরীরের মাংসপেশি অনেকটাই ভেঙে যায়, আর এই ক্ষতি পূরণে প্রোটিনের কোনো বিকল্প নেই। ডাক্তাররা সাধারণত এই সময়ে খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

শুরুর দিকে হজমশক্তি একটু দুর্বল থাকে, তাই সেদ্ধ ডিম আর হালকা মুরগির স্যুপ দিয়ে শুরু করাটা ভালো। এরপর ধীরে ধীরে মাছ, ডাল আর দুধ যোগ করা যায়। আমার বন্ধুর ক্ষেত্রেও এই ধাপে ধাপে প্রোটিন বাড়ানোর পদ্ধতিটা বেশ কাজে দিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।

একটা বিষয় মনে রাখা দরকার তেল-মশলাযুক্ত ভারী খাবারের বদলে হালকা সেদ্ধ বা ভাপে রান্না করা প্রোটিন খাবার এই সময়ে বেশি সহজে হজম হয় এবং শরীর দ্রুত সেটা কাজে লাগাতে পারে। খাবারের এই ছোট্ট কৌশলটাই ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায় হিসেবে দারুণ কাজ করে।

৬.আয়রন ও ভিটামিন সি এর মেলবন্ধন

ডেঙ্গুর সময় রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়া একটা সাধারণ সমস্যা। এই ঘাটতি পূরণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার পালং শাক, বিটরুট, খেজুর নিয়মিত খাওয়া উচিত।

তবে শুধু আয়রন খেলেই হবে না, এটা শরীরে ঠিকমতো শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সি দরকার হয়। তাই আয়রনযুক্ত খাবারের সাথে কমলা, লেবু বা পেয়ারার মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল একসাথে খাওয়া উচিত। জ্বরে দ্রুত সুস্থ হতে কি ফল খাওয়া উচিত এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো কমলা, মোসাম্বি, পেয়ারা আর ডালিম, কারণ এগুলোতে একসাথে ভিটামিন সি আর আয়রন-বান্ধব উপাদান পাওয়া যায়।

এই দুটো একসাথে নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কিছুদিনের মধ্যেই শরীরে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দেয়, আর ডেঙ্গু পরবর্তী শরীর দুর্বলতা কমানোর কৌশল হিসেবে খাবারের এই ছোট্ট সমন্বয়টা সত্যিই বেশ কার্যকর প্রমাণিত হয়।

৭.প্লেটলেট বাড়াতে যা সাহায্য করে

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো প্লেটলেট কাউন্ট, আর জ্বর সেরে যাওয়ার পরও এটা স্বাভাবিক হতে কিছুদিন সময় নেয়। ডেঙ্গু রোগীর রক্তে প্লাটিলেট বাড়ানোর খাবার হিসেবে সবচেয়ে বেশি নাম আসে ডালিম, পেঁপে, কুমড়ার বীজ এবং সবুজ শাকসবজির।

ডালিম বা বেদানা এক্ষেত্রে পরিচিত ও কার্যকর একটা ফল, কারণ এতে আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। এছাড়া কুমড়ার বীজ, ব্রকলি এবং সবুজ শাকসবজিতে থাকা ভিটামিন কে প্লেটলেট উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।

তবে একটা কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার খাবার সহায়ক ভূমিকা রাখে ঠিকই, কিন্তু নিয়মিত ব্লাড টেস্টের মাধ্যমে প্লেটলেট কাউন্ট মনিটর করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলাটাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ডেঙ্গু-জ্বর-হওয়ার-পর-শারীরিক-দুর্বলতা-কাটানোর-উপায়

৮.পেঁপে পাতার রস নিয়ে বাস্তব কথা

ডেঙ্গু হলেই আমাদের দেশে সবার আগে যে পরামর্শটা শোনা যায়, তা হলো পেঁপে পাতার রস খাওয়া। এটা নিয়ে বহু বছর ধরে চলে আসা একটা জনপ্রিয় ঘরোয়া চর্চা, আর আমার বন্ধুর পরিবারও শুরুতে এটা নিয়ে দ্বিধায় ছিল।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পেঁপে পাতার রসে থাকা কিছু উপাদান প্লেটলেট বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে এটাকে চিকিৎসার প্রধান উপায় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক না। পেঁপের পাতার রস দিয়ে ডেঙ্গুর চিকিৎসা করা যায় কিনা এই প্রশ্নের উত্তর হলো, এটা মূল চিকিৎসার বিকল্প না, বরং একটা সহায়ক ঘরোয়া উপায় মাত্র। ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে, নির্দিষ্ট পরিমাণ মেনে এটা খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

এই অভিজ্ঞতা থেকে একটা জিনিস স্পষ্ট ঘরোয়া উপায়গুলো একেবারে ফেলনা না, কিন্তু নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিমাণ ঠিক করাটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এগোনোটাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

৯.ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফেরা

জ্বর সেরে একটু ভালো বোধ করা শুরু হলেই অনেকে হুট করে ভারী কাজ বা ব্যায়াম শুরু করে দেন, যেটা আসলে বড় একটা ভুল। শরীর তখনো পুরোপুরি প্রস্তুত থাকে না, আর হঠাৎ চাপ দিলে উল্টো দুর্বলতা বেড়ে যেতে পারে।

প্রথম কয়েকদিন হালকা হাঁটাহাঁটি দিয়ে শুরু করা ভালো, দিনে হয়তো দশ থেকে পনেরো মিনিট। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যায়, আর শরীর সাড়া দিলে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম যোগ করা যেতে পারে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটাই আসলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায় খুঁজে পাওয়ার একটা বড় অংশ শরীর যে সংকেত দেয়, সেটা শোনাটাই সবচেয়ে জরুরি। ক্লান্তি লাগলে থেমে যাওয়া, ভালো লাগলে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাওয়া ডেঙ্গুর পরে শরীরের দুর্বলতা কমানোর টিপস বলতে মূলত এই ধৈর্য ধরে ধাপে ধাপে এগোনোর অভ্যাসটাকেই বোঝায়।

১০.মানসিক দিক থেকে সামলে ওঠা

শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি একটা বিষয় নিয়ে খুব কম কথা হয়, তা হলো মানসিক ক্লান্তি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে মনও কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কোনো কাজে মন বসতে চায় না, ছোটখাটো জিনিসেও বিরক্তি লাগে।

এটা দীর্ঘ অসুস্থতার একটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এই সময়ে পরিবারের সহযোগিতা আর ধৈর্য ধরে পাশে থাকাটা রোগীর জন্য অনেক বড় একটা সাপোর্ট হয়ে দাঁড়ায়।

পছন্দের সিনেমা দেখা, হালকা গল্পের বই পড়া, কাছের মানুষদের সাথে টুকটাক কথা বলা,এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই আস্তে আস্তে মানসিক অবস্থাটাকে স্বাভাবিক করে তুলতে সাহায্য করে, আর শারীরিক দুর্বলতা কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার পথেও এটা একইভাবে জরুরি একটা ধাপ।

১১.যেসব ভুল এড়ানো জরুরি

দুর্বলতা কাটানোর পাশাপাশি কিছু ভুল আছে যেগুলো এই সময়ে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলো না মানলে রিকভারি প্রক্রিয়া আরও ধীর হয়ে যেতে পারে, আর ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টাটাও কার্যকর হয় না।

নিচের বিষয়গুলো এই সময়ে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার:

  • জ্বর সেরে গেলেই সম্পূর্ণ সুস্থ ভেবে দ্রুত কাজে ফিরে যাওয়ার ভুল না করা
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ব্যথানাশক বা অন্য কোনো ওষুধ না খাওয়া
  • হঠাৎ ভারী ব্যায়াম বা পরিশ্রমের কাজ শুরু না করা
  • তেল-মশলাযুক্ত ভারী খাবার এড়িয়ে চলা
  • নিয়মিত ব্লাড টেস্ট এবং ডাক্তারের ফলোআপ এড়িয়ে না যাওয়া

এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে শরীরের রিকভারি প্রক্রিয়া অনেক মসৃণ হয়। সংক্ষেপে বলা যায়, ডেঙ্গুর পরে শরীরের দুর্বলতা কমানোর টিপস মেনে চলার পাশাপাশি এই ছোট ছোট ভুলগুলো এড়িয়ে চলাটাও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।

১২.কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

বাসায় যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। নিজে নিজে সব সামলানোর চেষ্টা করাটা মাঝেমধ্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

যদি জ্বর সেরে যাওয়ার পরও শরীরে তীব্র দুর্বলতা কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, শ্বাসকষ্ট হয়, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, পেটে তীব্র ব্যথা হয়, বা মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়  তাহলে এগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করিয়ে প্লেটলেট এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রা মনিটর করাটাও এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা ধাপ। শরীর নিজে থেকে যতই সুস্থ মনে হোক না কেন, চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকাটা সবসময় নিরাপদ একটা সিদ্ধান্ত ,আর এটাও ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

১৩.শেষ কথা: ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়

আমার বন্ধুর রিকভারি প্রক্রিয়াটা কাছ থেকে দেখার পর একটা জিনিস স্পষ্ট বুঝেছি, ডেঙ্গু জ্বর সেরে যাওয়ার পরের সময়টাই আসলে সবচেয়ে বেশি যত্ন দাবি করে। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ধৈর্য আর নিয়মিত ডাক্তারি পর্যবেক্ষণ-এই কয়েকটা জিনিস মিলিয়েই দ্রুত সুস্থতা সম্ভব হয়।

এই যাত্রায় অনেক শেখার বিষয় ছিল, তবে সবচেয়ে বেশি যেটা কাজে দিয়েছিল তা হলো শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়া আর তাড়াহুড়া না করা।

তাই যারা এখন এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বা কাছের কারো জন্য চিন্তিত আছেন, তাদের বলব - নিজের বা প্রিয়জনের শরীরের কথা শুনুন, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এভাবেই সত্যিকার অর্থে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায় খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ফোকাস ওয়ার্ল্ড ২৪-এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url